শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার একমাত্র জ্বালানি সরবরাহ কেন্দ্র ‘হাজী সাইজ উদ্দিন ফিলিং স্টেশন’-এ তেল বিক্রিতে চরম অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পাম্পের বিভিন্ন স্থানে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা সংবলিত ব্যানার ও নির্দেশিকা থাকলেও তা মানছে না খোদ স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তি এখন চরমে।
সরেজমিনে দেখা যায়, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পেট্রোল ও অকটেন গ্রহণকারী মোটরসাইকেল চালকদের জন্য হেলমেট পরিধান এবং বৈধ কাগজপত্র যেমন—লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন ও ট্যাক্স টোকেন থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে পাম্পে এসব নিয়মের কোনো তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। হেলমেট ও কাগজপত্র ছাড়াই অবাধে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।
স্থানীয় স্কুল শিক্ষক রতন মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “তেল আসার খবর শুনেই কিছু অসাধু চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা দিনে একাধিকবার তেল আহরণ করে এবং পরবর্তীতে তা অধিক দামে খুচরা বাজারে বিক্রি করে। প্রশাসনের নিয়মগুলো যথাযথ বাস্তবায়ন হলে এই কালোবাজারি বন্ধ করা সম্ভব হতো।”
অনিয়মের বিষয়ে পাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, তেল বিতরণের তদারকির জন্য উপজেলা প্রশাসন থেকে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। যিনি দায়িত্বে থাকেন, তার নির্দেশেই তেল বিতরণ করা হয়। তবে পাম্পের শ্রমিক ও কর্মকর্তারা জানান, তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই পেশায় কাজ করছেন এবং অনেক সময় ভিড়ের চাপে শৃঙ্খলা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নালিতাবাড়ী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনিসুর রহমান বলেন, “তেল আসার পর উৎসুক জনতা নিয়ম ভেঙে পাম্পে ভিড় করে, যার ফলে অনেক সময় বিধিবিধান শতভাগ মানা সম্ভব হয় না।”
ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের দাবি, জ্বালানি সংকট ও অনিয়ম এড়াতে দ্রুত ‘ফুয়েল কার্ড’ প্রথা চালু করা প্রয়োজন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কার্ডের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ করলে অতিরিক্ত মজুদ ও কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে তারা মনে করেন।

৩৯.৯°সে