নিউজ ডেস্ক:
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা মডেল মসজিদের খতিব ও পেশ ইমাম মাওলানা তৈয়ব আলীর বিরুদ্ধে নানা স্বেচ্ছাচারিতা, আর্থিক অনিয়ম ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার জামাতের সময়সূচী নির্ধারণ নিয়ে পরিচালনা কমিটি ও মুসল্লিদের তোয়াক্কা না করে তিনি নিজের মনগড়া সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছেন বলে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এমনকি এই সময়সূচীর বিষয়ে খোদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কিছুই জানেন না।
জানা গেছে, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী মডেল মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে সংশ্লিষ্ট ইউএনও এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া কমিটিতে সদস্য হিসেবে থাকেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি), পৌর মেয়র, সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান, দাতা সদস্য, নিয়মিত নামাজী, একজন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও স্বয়ং পেশ ইমাম এবং বিধি অনুযায়ী স্থানীয় সাসংদ ও উপজেলা চেয়ারম্যান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী এই বৃহৎ কমিটির সমন্বয়ে মসজিদের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার কথা থাকলেও ইমাম তৈয়ব আলী যোগদানের পর থেকেই একক ও মনগড়া সিদ্ধান্ত নিয়ে আসছেন।
নালিতাবাড়ী মডেল মসজিদে ঈদের নামাজ ঘিরে স্থানীয়দের মাঝে আলাদা আগ্রহ ও উৎসাহ থাকে। তবে এবার ইমামের মনগড়া সিদ্ধান্তের কারণে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মুসল্লিরা। স্থানীয় ইউপি সদস্য হামিদুল ইসলাম হারুন জানান, “মসজিদটি আমাদের ইউনিয়নে অবস্থিত হওয়ায় বরাবরই বিভিন্ন জায়গা থেকে এখানে ওয়াক্তের নামাজ পড়তে মুসল্লিরা আসেন। ঈদ ঘিরে সবার আলাদা উৎসাহ থাকে। তবে এবার আনুষ্ঠানিক কোনো প্রচার না থাকায় নামাজের সময় জানতে পারিনি। ফলে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও জামাতে যেতে পারিনি।”
স্থানীয় বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “ইমাম সাহেব এখানে ইমামতি করার পাশাপাশি অন্য জায়গায় চাকরি করেন। মসজিদের দানের টাকার কোনো হদিশ আমরা পাই না। উনি একাই সব নিয়ন্ত্রণ করেন, তাঁর বিপক্ষে কেউ কথা বললে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে যান।”
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৯ মে পেশ ইমাম হিসেবে নিয়োগ পান উপজেলার কাকরকান্দি ইউনিয়নের বেনুপাড়া গ্রামের মো: হাসেন আলীর ছেলে মো: তৈয়ব আলী। মডেল মসজিদে কর্মরত থাকা অবস্থাতেই কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তিনি ‘তাওয়াক্কুলিয়া মাদ্রাসা’য় শিক্ষকতা করে আসছেন। যার ফলে প্রায়শই জোহরের ওয়াক্তে নামাজ পড়াতে তাঁর দেরি হতো। স্থানীয় বাসিন্দা সোহাগ মিয়া জানান, “জোহরের নামাজে প্রতিনিয়ত দেরি করায় আমরা বিষয়টি ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। শুনেছি তারা নাকি ব্যবস্থাও নিয়েছে।” এছাড়া পেশ ইমাম তৈয়ব আলী ‘খেলাফতে মজলিস’ নালিতাবাড়ী শাখার সাধারণ সম্পাদক পদে থাকায় অন্যান্য ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব খাটান বলেও অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, তাঁর বিরুদ্ধে আনিত এসব অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে বর্তমানে তাঁর বেতন বন্ধ রাখা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ভিশন টিভির পক্ষ থেকে পেশ ইমামের মোবাইল ফোনে একাধিকাবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিছিব করেন নি।
এ ব্যাপারে মডেল মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার শহিদুল্লাহ জানান, “ঈদুল আজহার নামাজের সময়সূচী নির্ধারণের বিষয়ে আমাকে কিছুই জানানো হয়নি। সম্পূর্ণ কমিটির অজান্তেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
অন্যদিকে নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনাব মো: আব্দুল মালেক জানান, নামাজের সময়সূচী নির্ধারণ বা পরিবর্তনের বিষয়ে ইমামের পক্ষ থেকে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানানো হয়নি বা কোনো পরামর্শ করা হয়নি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

৩০.৬৩°সে