শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার মধ্যকুড়া গ্রামে একটি বিচারাধীন শিশু ধর্ষণ মামলার বাদীকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। মামলা তুলে নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় গভীর রাতে তার বসতঘরে হামলার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগী মোঃ সাইফুদ্দিন নালিতাবাড়ী থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে জানান, তার মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। মামলার আসামি ও তাদের সহযোগীরা বিভিন্ন সময় মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ভয়ভীতি, হুমকি ও নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করে আসছিল। কিন্তু তিনি ন্যায়বিচারের স্বার্থে মামলা প্রত্যাহার করতে রাজি না হওয়ায় অভিযুক্তরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২৯ মে দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি সংঘবদ্ধভাবে তার বাড়ির পেছনের অংশে গিয়ে বসতঘরের দেয়াল কেটে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। পরিবারের সদস্যদের ধারণা, ঘরে ঢুকে ভয়াবহ কোনো ঘটনা ঘটানোর উদ্দেশ্যেই এ হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
সাইফুদ্দিন জানান, গভীর রাতে দেয়াল কাটার শব্দে তার ঘুম ভেঙে গেলে তিনি চিৎকার শুরু করেন। তার ডাক শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
লিখিত অভিযোগে মধ্যকুড়া গ্রামের আতিক (২৪) ও সামিউল ইসলাম (৫০)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী সাইফুদ্দিন বলেন, “আমাকে বারবার মামলা তুলে নিতে বলা হয়েছে। বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। কিন্তু আমি ন্যায়বিচারের আশায় মামলা চালিয়ে যাচ্ছি। এখন আমাকে ও আমার পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা চলছে। আমরা চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিচারাধীন একটি মামলার বাদীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মামলা প্রত্যাহারে বাধ্য করার চেষ্টা এবং ব্যর্থ হয়ে গভীর রাতে তার বাড়িতে হামলার চেষ্টা আইনের শাসনের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে ভুক্তভোগী পরিবার আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে যে কোনো সময় আরও বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে। তাই তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাফুজ্জামান বলেন, “এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন- ধর্ষণ মামলার বিচার চাওয়াই কি অপরাধ? যদি একজন বাদীকে মামলা তুলে নিতে চাপ দেওয়া হয় এবং নিজ ঘরেও নিরাপদ থাকতে না দেওয়া হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচারের আশায় কোথায় দাঁড়াবে?

২৭.৪২°সে