শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের কালাপানি এলাকায় সীমান্ত মহাসড়কের ওপর সৃষ্টি হওয়া একটি বড় ও গভীর গর্ত এখন স্থানীয়দের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের এই অংশটি ভাঙাচোরা ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও সংস্কারের উদ্যোগ না নেওয়ায় যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই সড়কটি নাকুগাঁও স্থলবন্দর, কামালপুর সীমান্ত, মধুটিলা ইকোপার্ক ও বারোমারি মিশনসহ এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। প্রতিদিন শত শত যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, পিকআপ, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল এ পথে চলাচল করে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত পর্যটকরাও মধুটিলা ইকোপার্ক ও বারোমারি মিশনে যেতে এই সড়ক ব্যবহার করেন।

কিন্তু কালাপানি এলাকায় সড়কের মাঝখানে তৈরি হওয়া বিশাল গর্তটি বর্তমানে ‘মৃত্যুফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে গর্তে পানি জমে থাকায় এর গভীরতা বোঝা যায় না। ফলে চালকদের ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চালাতে হচ্ছে। রাতে এবং প্রতিকূল আবহাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির এই বেহাল অবস্থার কারণে জনদুর্ভোগ বাড়ছে। গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত সড়ক হওয়া সত্ত্বেও সংস্কারের কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।
এ বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা ওমর ফারুক বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত সড়কের এই অংশটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আছে। নাকুগাঁও স্থলবন্দর, কামালপুর সীমান্ত, মধুটিলা ইকোপার্ক ও বারোমারি মিশনে যাতায়াতের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। দ্রুত সংস্কার করা না হলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত গর্তটি মেরামত করে সড়কটি নিরাপদ করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি দুর্ঘটনা এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানটিতে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড ও অস্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণেরও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসীর মতে, সীমান্ত, পর্যটন ও বাণিজ্যিক গুরুত্বসম্পন্ন এই সড়কের এমন অবস্থা শুধু জনদুর্ভোগই বাড়াচ্ছে না, বরং যে কোনো সময় প্রাণহানির কারণ হতে পারে। তাই বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার কাজ শুরু করার দাবি তাদের।

২৯.২৬°সে