মিলন হোসেন, নিউজ ডেস্ক: সামান্য বৃষ্টিতেই ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নয়াবিল ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী দাওধারা এলাকা। স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মিত কালভার্টের মুখে মাটি ভরাট করে বসতবাড়ি নির্মাণ করায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে এই বিপর্যয়কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, দাওধারা এলাকায় পানি চলাচলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কালভার্ট থাকলেও দাওধারা গ্রামের ইদ্রিস আলী নামের এক ব্যক্তি সেটির মুখ মাটি দিয়ে ভরাট করে সেখানে বাড়িঘর নির্মাণ করেছেন। ফলে বৃষ্টির পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশিত হতে না পেরে আশপাশের নিচু এলাকাগুলোতে জমে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা তৈরি করছে।
সাম্প্রতিক হালকা বৃষ্টিতেই ওই এলাকার অন্তত ৮ থেকে ১০টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে বসতঘর, আসবাবপত্র, ধান-চাল, খাদ্যশস্য ও গাছপালা। এতে স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ভুক্তভোগী ফখরুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ইদ্রিসের এই কাজটা করা মোটেও ঠিক হয়নি। জন্মের পর থেকে কেউ এভাবে কালভার্ট বন্ধ করেনি।” অপরদিকে স্থানীয় কৃষক লাল মিয়া জানান, “ইদ্রিসের বাড়ি নির্মাণের পর হালকা বৃষ্টিতেই বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়ে যায়। ফসল তলিয়ে যায়, রাস্তাঘাটে পানি জমে থাকে। আমরা খুব ঝামেলার মধ্যে আছি, এর দ্রুত প্রতিকার দরকার।”
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি। দ্রুত অবৈধভাবে ভরাট করা অংশ অপসারণ, কালভার্ট সচল করা এবং টেকসই পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা দীর্ঘ সময় পানির নিচে ডুবে থাকবে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে বলে আশঙ্কা তাদের।

২৯.২৬°সে