শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার কাকরকান্দি ইউনিয়নের সোহাগপুর গ্রামের ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী ডালু সম্প্রদায়ের সহোদর মেঘনাথ সরকার (৫৫) এবং ভজন (৪৫) সরকারের পরিবারের বিরুদ্ধে ১৩ টি মামলা এবং বিভিন্ন অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার সন্তোষ সাধু নামের এক ব্যাক্তির বিরুদ্ধে।
সরেজমিনে জানা যায় মেঘনাথ সরকার এবং ভজন সরকারের পরিবার সন্তোষ সাধুর (৬২) প্রতিবেশী হওয়ায় বিভিন্ন সময়ে হাঁস, মুরগি, গরু, ছাগল সাধুর জমিতে গেলেও তা নিয়ে ঝগড়া হয় এবং মামলা দেয়।
একই গ্রামের গ্রাম পুলিশ রফিকুল ইসলাম জানান কয়েকবছর আগে মেঘনাথ সরকার প্রতিবেশী সন্তোষ সাধুর কাছে ৪০ হাজার টাকায় ৬ কাঠা জমি বন্ধকি। পরবর্তীতে রফিকুল ইসলাম এবং অন্যান্যদের উপস্থিতে সে টাকা মেঘনাথ ফেরত দিলেও সন্তোষ সাধু স্ট্যাম্প এ লিখা চুক্তিনামা ঢাকায় আছে বলে ফেরত না দিয়ে সেই চুক্তিনামা দেখিয়ে টাকা দাবি করে মামলা করে মেঘনাথ এবং ভজন সরকারের বিরুদ্ধে।
মেঘনাথ এবং ভজন সরকারের ওয়ারিশের জমি জবর দখল করে বিভিন্ন সময়ে গাছ কাটা এবং বেড়া দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে একের পর এক মামলা দিয়ে তাদের পরিবারকে নি:স্ব করে দেয়ার অভিযোগ করে ভুক্তভোগী মেঘনাথ সরকার। তিনি জানান সন্তোষ সাধু তাকে সহ পরিবারের ৯ সদস্যদের বিরুদ্ধে ১৩ টি মামলা করেছে। মেঘনাথ এবং ভজন সরকারের বিধবা মা ৮০ বছর বয়স্ক বৃদ্ধা হেমন্ত রানীও বাদ যায়নি সন্তোষ সাধুর মামলা থেকে।
হেমন্ত রানী বলেন, “সন্তোষ সাধু আমারে কুদালের গারা দিয়া মাইরা কোমরে আঘাত দিসে এবং হাতের এক আঙ্গুল ভাঙ্গসে ,আবার আঙ্গর নামেই মামলা দিছে”।
আরেক ভুক্তভোগী ভজন সরকার জানান আমাদের ৩ ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে কিছুদিন আগে সন্তোষ সাধু লোকজন নিয়ে এসে আমার জমির গাছ কাটে, পুকুর থেকে মাছ মেরে নিয়ে যায়, এবং দখলের জন্য আমাদের জমিতে বেড়া দেয়। আমাদের মহিলারা নিষেধ করলে তাদেরকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে বেধরক মারধর করে। আমার বৃদ্ধ মা সহ পরিবারের ৫ জন মহিলাকে লোকজন নিয়ে এসে মারধর করে সন্তোষ সাধু। পরে আবার আমাদের নামেই মামলা দেয়। আমরা এই মামলাবাজ সাধুর কাছ থেকে মুক্তি চাই।
স্থানীয় প্রতিবেশী রেজাউল (৬০) বলেন “ভজনের মা, বউ রে এবং পরিবারের বেডিগোরে বেধরক মারসে এটা আমিও দেখসি ,এরা খুব অত্যাচারের স্বীকার , সন্তোষ সাধু এই পরিবারকে শান্তিতে থাকতে দিতাছেনা। মারে আবার হেই মামলা করে। এরা খুব অসহায়।”
স্থানীয় প্রতিবেশী নজরুল ইসলাম (৫০) বলেন “এই সন্তোষ সাধু একজন মামলাবাজ লোক ,সে মেঘনাথের পরিবারকে অনেকদিন ধরেই অত্যাচার করে। একটার পর একটা মামলা করে হয়রানি করে। তার অত্যাচার থেকে বাড়ির মহিলারাও বাদ যায়না। আমরা প্রতিবেশী হিসেবে এর সুরাহা চাই।”
অভিযোগের ব্যাপারে সন্তোষ সাধুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসী বলেন, উভয় পক্ষের সমাধানের চেষ্টা করা হলেও সন্তুষ সাধু কোন সিদ্ধান্ত মানতে রাজি নন।

২৭.৭৮°সে
