নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি: শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় ‘তাকওয়া ফাউন্ডেশন’ ও ‘পল্লী কথা সোসাইটি’ নামক ভুয়া ও নিবন্ধনহীন সংস্থার নাম ভাঙিয়ে নিরীহ আলেমদের কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ৬৫ জন আলেম যৌথভাবে স্বাক্ষর করে নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইউএনও জনাব আব্দুল মালেক ঘটনাটি তদন্তের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছেন।
এদিকে, অর্থ আত্মসাতের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় মূল অভিযুক্ত মাওলানা ইসমাইলকে ইতিমধ্যেই তার কর্মস্থল কেন্দুয়াপাড়া দারুল উলুম মাদরাসা থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত দুই মাওলানা একটি সাক্ষাৎকারে ঘটনার সাথে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।
ভুক্তভোগী আলেমদের দাবি, কেন্দুয়াপাড়া নিবাসী মাওলানা ইসমাঈল ও সুতিয়ারপাড় গ্রামের মাওলানা ইব্রাহিম এই প্রতারণার মূল হোতা।
ভুক্তভোগী মাওলানা নাজমুল ইসলাম জানান, “আমরা ইসমাইল হুজুরকে বিশ্বাস করার প্রধান কারণ ছিল তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের শিক্ষক। বিভিন্ন সময় তিনি আমাদের নানান চাকরির কথা বলতেন। আমাদের অল্প আয়ের পেশায় কিছু বাড়তি রোজগার যোগ করতেই মূলত তার এই ফাঁদে আমরা পা দেই।”
আরেক ভুক্তভোগী মাওলানা হানজালা বলেন, “ইসমাইল জেনে-বুঝেই আমাদের সাথে প্রতারণা করেছে। সে আমাদের জানাতো যে—মাওলানা ইব্রাহিম ঢাকা থেকে সব গুছিয়ে নিয়ে আসবে, তোমরা শুধু টাকা দাও।”
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইতিপূর্বে মাওলানা ইসমাইলের বিরুদ্ধে উক্ত অভিযোগ কেন্দুয়াপাড়া দারুল উলুম মাদরাসায় ভুক্তভোগীরা জমা দিলে, মাদরাসা কমিটির তদন্তে তার জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে। এর প্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটি তাকে চাকরিচ্যুত করে। তবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের শিক্ষক পদের প্রভাব ও মডেল মসজিদকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি আলেমদের সাথে এই জালিয়াতি চালিয়ে যান।
এ বিষয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন নালিতাবাড়ীর ফিল্ড সুপারভাইজারের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, “ইতিমধ্যেই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আমাকে এই বিষয়ের তদন্তভার দিয়েছেন। তদন্তে সত্যতা পেলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এর আগে নালিতাবাড়ী উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম নিশ্চিত করেছিলেন যে, ‘তাকওয়া ফাউন্ডেশন’ বা ‘পল্লী কথা সোসাইটি’ নামে কোনো বৈধ সংগঠন বা এনজিওর অস্তিত্ব নালিতাবাড়ীতে নেই।
এদিকে পুরো ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত মাওলানা ইব্রাহিম ও মাওলানা ইসমাইল ‘টিম ভিশন টিভি’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জালিয়াতির কথা স্বীকার করেছেন। তারা জানান, তারা উভয়েই এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত। তবে অভিযোগকারীরা যদি তাদের কিছুটা সময় দেন, তবে তারা সবার টাকা ফেরত দিয়ে দেবেন।
উল্লেখ্য, দৈনিক ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট করে মক্তব পড়ানোর বিনিময়ে প্রতি মাসে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা বেতন পাওয়ার আশ্বাসে প্রতিটি শিক্ষকের কাছ থেকে ফরম পূরণ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার নামে ২,৩০০ থেকে ৪,৫০০ টাকা করে হাতিয়ে নেওয়া হয়। প্রায় দেড় বছর অতিবাহিত হলেও মক্তব চালু না হওয়ায় এবং টাকা ফেরত চাইলে উল্টো হুমকি দেওয়ায় ভুক্তভোগী আলেমরা প্রশাসনের দ্বারস্থ হন। বর্তমানে টাকা ফেরত ও নিজেদের নিরাপত্তার দাবিতে ভুক্তভোগী আলেমসমাজ ও স্থানীয় সচেতন মহল এই প্রতারক চক্রের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছেন।

২৯.২৬°সে