শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার কলসপাড় নঈমী দাখিল মাদরাসার সুপার আব্দুস সামাদ এর বিরুদ্ধে দুর্নীতি অবৈধ নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়ে স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভিশন টিভির সিনিয়র রিপোর্টার ও দৈনিক সকালের সময় পত্রিকার নালিতাবাড়ী প্রতিনিধি মোঃ হারুন অর রশিদের প্রতিবেদন দৈনিক সকালের সময় পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ায় নড়েচড়ে বসেছে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর।
সম্প্রতি মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত পরিদর্শক এইচ এম শামিম আহম্মদ স্বাক্ষরিত এক নোটিশে জানা যায়, অভিযোগটি তদন্তের জন্য জেলা প্রশাসক,শেরপুর কে দায়িত্ব দিয়ে চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে এবং নোটিশ জারির এক মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ, অভিভাবক এবং ছাত্রছাত্রীদের মাধ্যমে জানা যায়, ২০২৫ ইং সাল পর্যন্ত মাদরাসায় বিজ্ঞান বিভাগ চালু ছিল না। অথচ মাদরাসার সুপার আব্দুস ছামাদ বিজ্ঞান বিভাগ চালু আছে মর্মে মিথ্যা তথ্য দিয়ে মাদরাসার আইসিটি বিষয়ক সহকারী শিক্ষক মোঃ মনিরুজ্জামানের মেয়ে মারজিয়া জাহান মীম কে ল্যাব সহকারী পদে নিয়োগ দিয়েছেন। সরেজমিনে জানা যায়,২০২৬ ইং সালের মার্চ মাসে মাদরাসায় বিজ্ঞান বিভাগের অনুমোদন হয়। কিন্ত বিজ্ঞান বিভাগ চালু আছে মর্মে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ২০২৫ ইং সালের জুলাই মাস থেকে ল্যাব সহকারী মারজিয়া জাহান মীম (ইনডেক্স নং M0062361) কে এমপিওভুক্ত করা হয়। অর্থাৎ পদ অনুমোদনের আগেই নিয়োগ দিয়ে বেতনভুক্ত করা হয়েছে। কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর পদেও একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা যায়, মাদরাসায় অনুমোদিত কম্পিউটার ল্যাব না থাকা সত্বেও সুপার আব্দুস ছামাদ ক্ষমতার অপব্যবহার করে মোঃ আব্দুল হান্নান মিয়া (ইনডেক্স নং M0062573) নামে একজনকে নিয়োগ দিয়ে এমপিওভুক্ত করান, যা বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ বিধি পরিপন্থী এবং শাস্তি যোগ্য অপরাধ।
![]()
নামে প্রকাশে অনিচ্ছুক অভিযোগকারীরা জানান, সুপার আব্দুস ছামাদ মাদরাসার অর্থ আত্মসাৎ, শিক্ষকদের সাথে অশোভন আচরণ, নতুন যোগদানকৃত শিক্ষকদের কাছ থেকে এমপিও খরচ বাবদ মোটা অংকের ঘুষ গ্রহণ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত। সম্প্রতি মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তিনি দুইজন কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছেন। অথচ মাদরাসার দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন করেন নি।
অভিযোগকারীরা সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষ সুপার আব্দুস ছামাদকে চাকরিচ্যুত করাসহ উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেছেন। এ বিষয়ে নালিতাবাড়ী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিজ্ঞান বিভাগ চালু না থাকলে ল্যাব সহকারী পদে এবং অনুমোদিত কম্পিউটার ল্যাব না থাকলে কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর পদে নিয়োগ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অধিদপ্তরের নির্দেশনা পেলে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
উল্লেখ্য,সুপার আব্দুস ছামাদের দূর্নীতি ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ গত ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছিল যার অভিযোগ নং ২৬৬২৬/০৩.১২.২০২৫। কিন্তু, অভিযোগের প্রেক্ষিতে অধিদপ্তর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় গত ১৮/০২/২০২৬ ইং তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী বরাবর পুনরায় ইমেইল এবং ডাকযোগে অভিযোগ দাখিল করা হয় যার অনুলিপি ডাকযোগে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রেরণ করা হলে অধিদপ্তর অভিযোগটি আমলে নেয়। ফোনে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিদর্শক (ময়মনসিহ অঞ্চল) এইচ.এম. শামিম আহমেদ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। অভিযোগকারীদের আশংকা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে সুপারের যোগসাজশ থাকায় তিনি অভিযোগটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তারা সুপার আব্দুস ছামাদ এবং অবৈধভাবে নিয়োগ প্রাপ্ত ল্যাব সহকারী মারজিয়া জাহান মীম (ইনডেক্স: M0062361) এবং কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর পদে মোঃ আব্দুল হান্নান মিয়া (ইনডেক্স: M0062573) এর বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের জোর দাবি জানিয়েছেন।

২৬.২২°সে