অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের দায়ে কারাভোগকালে মারা যাওয়া এক বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ হস্তান্তর করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নাকুগাঁও সীমান্ত দিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও পুলিশের উপস্থিতিতে মরদেহটি তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মৃত যুবকের নাম মোঃ শিপন (৩৫)। তিনি বরগুনা সদর উপজেলার শফেজ হাওলাদারের ছেলে। পুলিশ ও বিজিবি সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৯ মাস আগে তিনি ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ করেন। পরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে আটক হলে তাকে সেখানকার পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। পরবর্তীতে ভারতীয় আদালত অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে তাকে কারাদণ্ড দিয়ে তুরা জেলা কারাগার ও সংশোধনাগারে পাঠায়।
কারা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ এপ্রিল বিকাল আনুমানিক ৪টা ৫৪ মিনিটে কারাগারে সহবন্দীদের সঙ্গে থাকা অবস্থায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন শিপন। পরে কারা কর্তৃপক্ষ দ্রুত তাকে তুরা জেলা সিভিল হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। উল্লেখ্য, আগামী ২৮ এপ্রিল তার কারাভোগের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ভারতের হলিদাগঞ্জ থানায় তার বিরুদ্ধে C/No. 20/2024 নম্বর মামলা দায়ের করা হয় এবং GR No. 132/24 (P) হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে BNS ধারা ৩৩৭/৩৩৯, Foreigners Act এর ধারা ১৪এ(বি) এবং Passport Act এর ধারা ১২(৩) অনুযায়ী অভিযোগ আনা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
দুই দেশের প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে মঙ্গলবার দুপুর একটার দিকে নাকুগাঁও সীমান্তে আনুষ্ঠানিকভাবে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মরদেহ হস্তান্তরকালে ভারতের বিএসএফ-এর পক্ষে ঢালু কোম্পানি কমান্ডার ইন্সপেক্টর ক্ষেমা রাম, ঢালু ইমিগ্রেশন ইনচার্জ বি.কে. মারাক এবং আড়াই মাইল থানার সেকেন্ড ইনচার্জ মুখেশ মারাক উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিজিবির হাতিপাগার সুবেদার ফুল মিয়া সরকার, নাকুগাঁও ইমিগ্রেশন ইনচার্জ পলাশ চন্দ্র সরকার এবং নালিতাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

২৬.২২°সে