শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নের বাংলা মোড় এলাকায় বনবিভাগের জমি দখল করে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে চান মিয়া নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নীরবতার সুযোগে দিনের পর দিন বনবিভাগের জায়গা দখল করে গড়ে উঠছে বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রথমে চান মিয়া বনবিভাগের জায়গায় বিট বালু ফেলে রাখেন। এ বিষয়ে এলাকাবাসী জানতে চাইলে তিনি সেখানে বালুর ব্যবসা করবেন বলে জানান। কিন্তু কিছুদিন পর সেখানে দোকানঘর নির্মাণের প্রস্তুতি শুরু হলে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় সমালোচনার ঝড় ওঠে।
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু চান মিয়াই নন— বাংলা মোড়সহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় আরও অনেকেই একইভাবে বনবিভাগের জায়গা দখল করছেন। কেউ দোকানঘর নির্মাণ করেছেন, আবার কেউ স্থায়ীভাবে বাড়িঘর গড়ে বসবাসও শুরু করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে এসব দখল চললেও কার্যকর অভিযান বা উচ্ছেদ না হওয়ায় দখলদাররা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, “প্রথমে বালু বা নির্মাণসামগ্রী ফেলে জায়গা দখল করা হয়। পরে ধীরে ধীরে টিনশেড ঘর, দোকানপাট এমনকি বাড়িঘরও তৈরি করা হচ্ছে। সরকারি জায়গা যেন এখন যার যা ইচ্ছা দখল করার জায়গায় পরিণত হয়েছে।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত চান মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,
“কিসের দখল? এই এলাকায় সবাই দখল করে রয়েছে, তাই কি হয়েছে?”
অভিযুক্তের এমন বক্তব্যে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ আরও বেড়েছে। সচেতন মহলের মতে, প্রকাশ্যে সরকারি জমি দখলের স্বীকারোক্তিমূলক এমন বক্তব্য প্রশাসনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের সামিল।
এ বিষয়ে বিট কর্মকর্তা আবদুল বারির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “বিষয়টি আমি দেখেছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা না করলে বনবিভাগের আরও জায়গা প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাবে। একই সঙ্গে সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।

২৭.৪২°সে