শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা উপজেলার রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নের বাংলা মোড় এলাকায় রাতের আধারে প্রকাশ্যে চলছে শাল-গজারি গাছ নিধনের মহোৎসব। রাস্তার দুই পাশে থাকা দুটি শাল-গজারির বাগান থেকে একের পর এক বড় বড় গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে একটি প্রভাবশালী চক্র। এতে ধ্বংসের মুখে পড়েছে স্থানীয় বন ও পরিবেশ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে গভীর রাতে ট্রাক ও ভ্যানযোগে মূল্যবান শাল-গজারি গাছ কেটে সরিয়ে নেওয়া হলেও রহস্যজনক কারণে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। এক সময় ঘন সবুজে ঢাকা থাকা বাগানগুলো এখন প্রায় বিরানভূমিতে পরিণত হতে বসেছে। বন উজাড়ের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কাও।
এলাকাবাসী জানান, বাগান দুটি ব্যক্তিমালিকানাধীন হলেও কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই নির্বিচারে গাছ কাটা হচ্ছে। এতে পরিবেশ ধ্বংসের পাশাপাশি জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়ছে।
এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দিনের পর দিন বন কেটে শেষ করে ফেলছে, অথচ দেখার যেন কেউ নেই। বন রক্ষার দায়িত্ব যাদের, তাদের নিষ্ক্রিয়তায় গাছখেকো চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।”
এ বিষয়ে গোপাল বিট কর্মকর্তা আবদুল বারীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এই বাগান ব্যক্তিমালিকানাধীন, সরাসরি বন বিভাগের আওতায় নয়। তারপরও খবর পেয়ে কয়েকদিন আগে গিয়ে গাছ কাটতে নিষেধ করেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, ব্যক্তিমালিকানাধীন হলেও পরিবেশ ধ্বংস করে এভাবে নির্বিচারে শাল-গজারি গাছ কাটার সুযোগ কীভাবে দেওয়া হচ্ছে। দ্রুত তদন্ত করে বন উজাড়ের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

২৭.৩১°সে