শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পৌর শহরের আড়াইআনী চকপাড়া এলাকায় দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে ব্যবহৃত একটি চলাচলের রাস্তা হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন অন্তত ২৫টি পরিবার। একমাত্র চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এলাকাবাসী এখন কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী ওই রাস্তা ব্যবহার করে আসলেও সম্প্রতি সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিশু শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। দিনমজুর, ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীরা প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজেও বাড়ি থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে অসুস্থ রোগীদের নিয়ে। এলাকাবাসী জানান, কেউ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার মতো স্বাভাবিক কোনো পথ নেই। বাধ্য হয়ে বিকল্প সরু রাস্তা কিংবা কাঁধে করে রোগী বহন করতে হচ্ছে। এমনকি কেউ মারা গেলেও মরদেহ কবরস্থানে নেওয়ার মতো ন্যূনতম ব্যবস্থাও নেই বলে অভিযোগ তাদের।
ভুক্তভোগীরা বলেন, “প্রায় ৩০ বছর ধরে আমরা এই রাস্তা ব্যবহার করে আসছি। হঠাৎ করে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা ঘরবন্দি হয়ে পড়েছি। শিশুদের লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে, রোগী নিয়ে বের হতে পারছি না, এমনকি মৃত ব্যক্তির দাফন নিয়েও চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে এলাকাজুড়ে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।
সচেতন মহলের মতে, এটি শুধু একটি রাস্তার সংকট নয়; এটি সাধারণ মানুষের মৌলিক চলাচলের অধিকার ও মানবিক নিরাপত্তার বিষয়। দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ছাড়া পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়।
চকপাড়াবাসীর একটাই দাবি—অবিলম্বে বন্ধ রাস্তা উন্মুক্ত করে স্বাভাবিক চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক। অন্যথায় যেকোনো সময় বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
তবে এ বিষয়ে নালিতাবাড়ী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আবদুল মালেক বলেন, “বিষয়টি দ্রুত সরেজমিনে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

২৭.১°সে