শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় বন্যহাতি ও মানুষের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী দ্বন্দ্ব নিরসন এবং নিরাপদ সহাবস্থান নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার মধুটিলা ইকোপার্ক গেস্ট হাউজে আয়োজিত এই সভায় বন্যহাতি পর্যবেক্ষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ডিভাইস স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী।
সভায় সভাপতিত্ব করেন শেরপুরের জেলা প্রশাসক জনাবা ফরিদা ইয়াসমিন।.সভায় বন্যহাতির উপদ্রব মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন প্রধান অতিথি ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী। তিনি ঘোষণা করেন, বন্যহাতির চলাচল পর্যবেক্ষণ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রথম পর্যায়ে নালিতাবাড়ীর বন্যহাতি-উপদ্রুত এলাকায় ১৫টি এআই প্রযুক্তিনির্ভর আর্লি ডিটেকশন ডিভাইস (ক্যামেরা) স্থাপন করা হবে।
তিনি বলেন, “এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি বন্যহাতির অবস্থান ও গতিবিধি নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম হবে। এর মাধ্যমে স্থানীয় জনগণকে আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া সম্ভব হবে, যা জানমাল রক্ষা এবং হাতি-মানুষের মধ্যকার সংঘাত উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনবে।”
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ক্রিয়েটিভ কনজারভেশন এলায়েন্সের কমিউনিটি গভর্ন্যান্স স্পেশালিস্ট জনাব আবরার আহমাদ। তিনি হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব হ্রাসে টেকসই ব্যবস্থাপনা ও স্থানীয় সচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ নূরুল করিমসহ বন বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ সভায় অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ERT)-এর সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পরিবেশকর্মী, সাংবাদিক এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, বন বিভাগ, প্রশাসন এবং স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রযুক্তি ব্যবহারের এই উদ্যোগটি বন্যহাতি ও মানুষের সহাবস্থানে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

২৪.০৬°সে