Header Border

ঢাকা, শনিবার, ১লা আগস্ট, ২০২৬ ইং | ১৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (বর্ষাকাল) ২৫.৭৪°সে
শিরোনাম
নালিতাবাড়ীতে কৃষকের ফাঁকা বাড়ি থেকে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে গরু-ছাগল লুট নালিতাবাড়ীতে প্রেসক্লাবের নয়া কমিটি গঠন: আহ্বায়ক বিপ্লব দে কেটু, সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম নালিতাবাড়ী উপজেলার যোগানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নতুন প্রশাসক রাশিদুজ্জামান ইমরান নালিতাবাড়ীতে মাদক বিরোধী সামাজিক বৈঠক অনুষ্ঠিত নালিতাবাড়ীতে মাদকবিরোধী প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি পদে ‘জনপ্রিয়তার শীর্ষে’ থাকা খাইরুল দেওয়ান কে? নালিতাবাড়ীতে যাত্রা শুরু করলো আলেপ আলী ফাউন্ডেশন নালিতাবাড়ী প্রেসক্লাবের নয়া কমিটি: আহ্বায়ক কেটু, সদস্য সচিব সাইফুল না‌লিতাবাড়ী‌তে সেন্ট লিও ধর্মপল্লীতে সংবর্ধনায় সিক্ত সংসদ সদস্য ফাহিম চৌধুরী নালিতাবাড়ীতে সাড়ে পাঁচ লক্ষ টাকার ভারতীয় মদসহ দুইজন গ্রেপ্তার

ডিসি সারোয়ার তার কর্মের খেসারত দিলেন

সিলেটের ধর্মপ্রাণ জনগণ, হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরাণের (রহ.) অগণিত ভক্ত-অনুরাগী এবং দরগাহ-সংশ্লিষ্ট মহলের পক্ষ থেকে প্রথমেই বিতর্কিত জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে দ্রুত ওএসডি করায় সরকার তথা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি স্বস্তি ও সন্তোষ প্রকাশ করছি।

গত সপ্তাহে লিখেছিলাম, ‘শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরাণের (রহ.) পবিত্র দরগাহ শরিফ নিয়ে সরকারকে বিব্রত করার কোনো গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে কি?’ সেখানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছিলাম, ‘শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্য, খাদেম পরিবারগুলোর মর্যাদা এবং স্থানীয় জনগণের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করে পরিস্থিতি অনুকূলে রাখতে আপনার দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ একান্ত প্রয়োজন।’

সিলেটবাসী কৃতজ্ঞ। পরিস্থিতি ডালপালা মেলার আগেই আপনি জেলা প্রশাসককে ওএসডি করে তার ‘ডানা’ কেটে দিয়েছেন এবং দম্ভ চূর্ণ করে দিয়েছেন। মালয়েশিয়া ও চীন সফরের প্রাক্কালে এমন ত্বরিত সিদ্ধান্ত ষড়যন্ত্রকারী মহল ও অতি উৎসাহী কর্মকর্তাদের প্রতি সরকারের একটি কঠোর সতর্কবার্তা।

আমি বলেছিলাম, ‘হাজারো গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকতে সিলেটের জেলা প্রশাসক হঠাৎ করে দুই দরগাহর হিসাব-নিকাশ নিয়ে কেন এত ব্যস্ত হয়ে উঠলেন, তা বোধগম্য নয়। শান্তিপ্রিয় সিলেটকে উত্তেজিত করার পেছনে কোনো বিশেষ মহলের গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত। বিষয়টি সরকারের জন্য একটি চরম বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।’ সরকারের এই ত্বরিত সিদ্ধান্তে মাজারবিরোধী তথা সরকারের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত মহল পরাস্ত হয়েছে বলে অনেকের ধারণা।

২৭তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা সারওয়ার আলমকে চিনি ২০১৫ সাল থেকে। র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) ভেজালবিরোধী ও ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের সময় তিনি প্রায় ছয় বছর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। ঢাকায় একজন পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় তখন একাধিক অভিযানে তার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে। জেলা প্রশাসক হিসেবে সিলেটে পদায়নের আগে তিনি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ছিলেন।

সাদাপাথর লুট নিয়ে যখন সিলেটে তোলপাড় চলছিল, তখনকার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকার তাকে প্রত্যাহার করে নেয় এবং ২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট সারওয়ার আলম সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেন। তার যোগদানে সিলেটবাসীর মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছিল। ভেজালবিরোধী অভিযানখ্যাত সারওয়ার আলমকে সে সময় আমিও অভিনন্দন জানিয়েছিলাম।

কিন্তু সরকার ও জনগণের হাজারো গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকতে তিনি অপ্রত্যাশিতভাবে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবে পরিচালিত হতে শুরু করেন। যার পরিণতি দাঁড়ায় হজরত শাহজালালের (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে অতি বাড়াবাড়ি। শেষ পর্যন্ত এসব কর্মকাণ্ডের এক দিনের মাথায়, ২১ জুন ২০২৬ দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১০ মাসের মধ্যেই তাকে ওএসডি হতে হলো। এই ১০ মাসে তিনি সিলেটবাসীর উচ্ছ্বাসকে কতটুকু সম্মান করেছেন এবং জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট কী কাজ করেছেন, তার বিচার-বিশ্লেষণ জনগণই করবেন।

আমরা দেখেছি, সাদাপাথর লুটের ঘটনায় দুদক তদন্ত করে তৎকালীন ডিসি, এসপি, প্রভাবশালী রাজনীতিকসহ অনেকের নাম উল্লেখ করে প্রতিবেদন দিয়েছে। কিন্তু জেলা প্রশাসক তাদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। অনেকের মতে, হম্বিতম্বি দেখিয়ে সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনই ছিল তার প্রধান কাজ।

শুধু জেলা প্রশাসনের অবহেলার কারণেই ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সিলেট অংশের ভূমি অধিগ্রহণের কাজ এখনো সম্পন্ন হয়নি। ফলে সিলেটবাসীর দুর্ভোগ ও দুর্দশা যেন তাদের নিয়তির অংশ হয়ে গেছে। থমকে আছে সিলেট-সুতারকান্দি চার লেন প্রকল্পের কাজও। এসব বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট শাখার দুর্নীতি, অনিয়ম এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগের প্রসঙ্গে না-ই গেলাম। জেলা প্রশাসকের ‘অতিপাণ্ডিত্য’র কারণে অনেক উন্নয়নকাজ স্থবির হয়ে আছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

কিন্তু একটি গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র যখন বিশেষ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত সত্ত্বেও নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং নির্বাচিত সরকার যখন স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে, তখন দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই সারওয়ার আলম সিলেট তথা সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের আবেগ, অনুভূতি ও বিশ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরাণের (রহ.) মাজার এবং অতি স্পর্শকাতর ‘অনুদানবাক্স’ ইস্যুতে একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন শুরু করেন।

হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরাণ (রহ.)—দুজনই বাংলাদেশের আধ্যাত্মিক রাজধানী সিলেটের অত্যন্ত সম্মানিত সুফি সাধক। জনমানসে তাদের ব্যক্তিত্ব ও মাজারের পরিবেশ সম্পর্কে নানা প্রচলিত ধারণা রয়েছে। হজরত শাহজালাল (রহ.) অত্যন্ত শান্ত, কোমল ও বিনয়ী স্বভাবের ছিলেন বলে লোকমুখে প্রচলিত। তার মাজারের পরিবেশ সবসময় গভীর শান্তি, গাম্ভীর্য ও আত্মিক প্রশান্তিতে ভরপুর থাকে।

সিলেট শহরের সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে উপেক্ষা করে এমন সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হলো—সে প্রশ্নও উঠেছে। জেলা প্রশাসকের এত খুঁটির জোর কোথায় ছিল? সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা এবং সিলেটে অস্থিরতা সৃষ্টির ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তিনি কার পরামর্শে বা কার সঙ্গে সমন্বয় করে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন—এসব বিষয় জনসমক্ষে স্পষ্ট করা সিলেটের সরকারদলীয় নেতাদের দায়িত্ব বলে অনেকে মনে করেন। এসব প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব না এলে ভবিষ্যতেও সরকার এ ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে।

জেলা প্রশাসকের এমন একগুঁয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় চলছে। অনেকেই বিষয়টির গভীরতায় না গিয়ে জেলা প্রশাসকের বক্তব্যে বাহবা দিয়েছেন। তবে উদ্বেগের মাত্রাই ছিল বেশি। অনেকেই তার সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছেন। আবার অনেকে সদ্যবিদায়ী এই ডিসি সাহেবের গত ১০ মাসের কর্মকাণ্ড নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। এলআর ফান্ডের টাকার হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশের দাবিও উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। আমি সেদিকে যেতে চাই না। তবে দুই পবিত্র দরগাহ শরিফের দীর্ঘদিনের প্রচলিত ব্যবস্থাপনায় হস্তক্ষেপ, ঐতিহ্যবাহী ডেগ সিলগালা এবং জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে দানবাক্স স্থাপন কেন্দ্র করে সিলেটজুড়ে যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, তার ক্ষত ভবিষ্যতে নানা উপায়ে ষড়যন্ত্রকারী মহল কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে। মানুষের আবেগ ও বিশ্বাসের এ স্থানকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টাও চলতে পারে।

ভক্ত-অনুরাগীদের অনেকেই মনে করেন, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে শতাব্দীপ্রাচীন ধর্মীয় ঐতিহ্য, খাদেম পরিবারগুলোর মর্যাদা এবং স্থানীয় জনগণের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা হয়নি। যার ফলে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল এবং তা সিলেটের ধর্মপ্রাণ মানুষের হৃদয়ে গভীর কষ্টের জন্ম দিয়েছিল।

জনগণ মনে করে, ক্ষমতা মানুষের সেবা করার জন্য, মানুষের বিশ্বাস ও অনুভূতিতে আঘাত করার জন্য নয়। দায়িত্বশীল পদে থেকে কেউ যদি জনগণের আবেগ, ঐতিহ্য ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে উপেক্ষা করেন, তাহলে তার জবাবদিহি থাকা উচিত।

এ প্রেক্ষাপটে সরকার জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে ওএসডি করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সিলেটবাসীর অনেকেই এটিকে জনমতের প্রতি সরকারের শ্রদ্ধাশীল অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। তাদের বিশ্বাস, দায়িত্বশীল পদে থেকে অহংকার, একতরফা সিদ্ধান্ত এবং জনগণের অনুভূতিকে উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই।

সিলেটবাসী আশা করেন, ভবিষ্যতে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরাণের (রহ.) পবিত্র দরগাহ শরিফের ঐতিহ্য, মর্যাদা এবং ধর্মীয় পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখতে সরকার সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

একই সঙ্গে তাদের বিশ্বাস, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ড যেন দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান দুটিকে বিতর্কিত বা অস্থিতিশীল করার কারণ না হয়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক থাকবে।

ধর্মীয় সম্প্রীতি, ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান এবং জনগণের অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের মাধ্যমে সিলেটের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে—এটাই সবার প্রত্যাশা।

সিলেটের শান্তি, সম্প্রীতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ থাকুক।

লেখক : সম্পাদক ও প্রকাশক, দ্য নিউজ ডিপ্লোমেটস।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

নালিতাবাড়ীতে কৃষকের ফাঁকা বাড়ি থেকে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে গরু-ছাগল লুট
নালিতাবাড়ীতে প্রেসক্লাবের নয়া কমিটি গঠন: আহ্বায়ক বিপ্লব দে কেটু, সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম
নালিতাবাড়ী উপজেলার যোগানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নতুন প্রশাসক রাশিদুজ্জামান ইমরান
নালিতাবাড়ীতে মাদক বিরোধী সামাজিক বৈঠক অনুষ্ঠিত
নালিতাবাড়ীতে মাদকবিরোধী প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত
রাষ্ট্রপতি পদে ‘জনপ্রিয়তার শীর্ষে’ থাকা খাইরুল দেওয়ান কে?

আরও খবর

error: Content is protected !!