ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার কয়েকটি গ্রামে বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে দুই দিনে অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থাকায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কুকুরের ভয়ে সোমবার (১৮ মে) উপজেলার মেদুয়ারী ইউনিয়নের দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার নিঝুরী, মেদুয়ারী ও কুচিলাতলা গ্রামে কয়েক দিন ধরে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব বেড়েছে। গত শনিবার ও রোববার নারী-শিশুসহ অন্তত ১১ জন কুকুরের কামড়ে আহত হন। মানুষের পাশাপাশি ওই তিন গ্রামের গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগিও কুকুরের আক্রমণের শিকার হচ্ছে।
কুকুরের কামড়ে আহতদের মধ্যে রয়েছেন দক্ষিণ মেদুয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আফরিন আক্তার (৭), তাঁর বাবা মনু মিয়া (৬৮), খাইরুল ইসলামের ছেলে মাহমুদুল হাসান (২), আসাদুল ইসলামের ছেলে সাইম হাসান (৩০), শহিদুল ইসলামের ছেলে সিয়াম (৪) এবং প্রতিবেশী হাসনা বেগম (৫০)। তাঁদের সবার বাড়ি মেদুয়ারী গ্রামে। এ ছাড়া আরও কয়েকজন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেলেও তাঁদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভাটি মেদুয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ খাদেমুল ইসলাম বলেন, ‘মেদুয়ারী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে বেওয়ারিশ কুকুরের ব্যাপক উপদ্রব দেখা দিয়েছে। আজ সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা একটি পাগলা কুকুর মেরে ফেলেছেন। পাশের গ্রামের একটি বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছে। বিদ্যালয়ের আশপাশের আরও কয়েকজনকে কুকুরে কামড় দেওয়ার খবর শুনেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আতঙ্কে আজ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী উপস্থিতি প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে। সকালে কয়েকজন অভিভাবক হাতে বাঁশের লাঠি নিয়ে সন্তানদের স্কুলে পৌঁছে দিয়েছেন।’
মেদুয়ারী গ্রামের বাসিন্দা মঞ্জিলা খাতুন বলেন, ‘রোববার বেলা ১১টার দিকে আমার ছেলে সিয়ামকে বাড়ির পাশে ৪-৫টি কুকুর শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড় দেয়। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। প্রায়ই কুকুরগুলোকে পাগলের মতো ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। এলাকার বেশির ভাগ ছাগলকেও কামড়ানো হয়েছে। এখন কুকুরের ভয়ে ছাগল মাঠে চরাতে নেওয়া যাচ্ছে না।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জমান বলেন, ‘উপজেলার মেদুয়ারী এলাকায় কুকুর আতঙ্কের কথা শুনেছি। তবে কুকুর আতঙ্কে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফাঁকা ছিল কি না, সে বিষয়ে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান আমাকে জানাননি।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘গত তিন দিনে উপজেলার মেদুয়ারী এলাকায় অনেক মানুষকে কুকুর কামড়িয়েছে বলে শুনেছি। তবে কুকুরের কামড়ে আহত একজন শিক্ষার্থীসহ আটজন রোগী আমাদের হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিয়েছেন। সবাইকে হাসপাতাল থেকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। অন্যরা হয়তো অন্য কোথাও চিকিৎসা নিয়েছেন।’
তিনি আরও জানান, ‘গত এক সপ্তাহে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কুকুরে কামড়ে আহত রোগীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে শতাধিক ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফিরোজ হোসেন বলেন, ‘কুকুরের কামড়ের বিষয়টি কেউ আমাকে জানায়নি। খোঁজ নিয়ে দেখব, কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়।’

২৭.১°সে