নালিতাবাড়ী উপজেলায় নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দে মাইক ও সাউন্ড সিস্টেম বাজানোর প্রতিবাদে এক অভিনব ও ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ জানিয়েছেন এক কলেজ শিক্ষক। আজ ১২ জুলাই (রবিবার) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাতে থালা ও চামচ নিয়ে, তা জোরে জোরে বাজিয়ে তীব্র শব্দ তৈরি করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে ১০ মিনিট অবস্থান নেন তিনি।
ব্যতিক্রমী এই প্রতিবাদী শিক্ষকের নাম মোঃ নুরুজ্জামান। তিনি উপজেলার হাজী নুরুল হক নন্নী পোড়াগাঁও মৈত্রী কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক এবং নালিতাবাড়ী ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা। শব্দ দূষণ সাধারণ মানুষের কান ও মগজে কতটা যন্ত্রণার সৃষ্টি করে—তা প্রশাসন ও জনগণকে বোঝাতেই তিনি নিজে এই শব্দ তৈরি করে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতিবাদ শুরুর সময় শিক্ষক নুরুজ্জামান একা থাকলেও তার এই যৌক্তিক আন্দোলন দেখে রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী সাধারণ পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তার পাশে এসে দাঁড়ান এবং আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।
আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে আবজাল নামে এক পথচারী বলেন, “উনার এই ব্যতিক্রমী প্রতিবাদটি আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। শব্দ দূষণে আমরা প্রতিনিয়ত কষ্ট পাচ্ছি। আমি এই প্রতিবাদকে পূর্ণ সমর্থন করি।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী রবিউল মমিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “উনার প্রতিবাদের সাথে আমিও একমত। ইদানিং চারপাশের উচ্চ আওয়াজের মাইকের শব্দে দোকানে বসে থাকাই যায় না, কাস্টমারের কথাও ঠিকমতো শোনা যায় না।”
প্রতিবাদকারী শিক্ষক মোঃ নুরুজ্জামান সংবাদকর্মীদের জানান, “চলমান এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালীন সময়েও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিয়ে, খৎনা ও নানা অনুষ্ঠানের নামে গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দে মাইক ও ডিজে বক্স বাজানো হচ্ছে। তীব্র আওয়াজের কারণে পরীক্ষার্থীরা রাতে বিন্দুমাত্র পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছে না। ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করলেও কেউ তা শুনছে না। তাই বাধ্য হয়েই নিজে তীব্র শব্দ তৈরি করে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এই প্রতীকী প্রতিবাদ জানালাম।”
কর্মসূচি চলাকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জনাব আঃ মালেক কার্যালয়ে উপস্থিত না থাকায়, তাঁর কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের পক্ষে শব্দ দূষণ রোধে ৬ দফা সুপারিশ সম্বলিত একটি স্মারকলিপি জমা দেন এই শিক্ষক।
স্মারকলিপিতে রাত ১০টার পর উচ্চ শব্দের মাইক নিষিদ্ধ করা, শান্ত এলাকা (সাইলেন্স জোন) চিহ্নিত করা, ডেকোরেটর মালিকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনার দাবি জানানো হয়।
নালিতাবাড়ী উপজেলার আপামর জনসাধারণের শান্তি, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় প্রশাসন দ্রুত এই বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সচেতন মহল।

২৬.৪২°সে